Halloween party ideas 2015
Showing posts with label Education. Show all posts

মাঝে মাঝেই দেখা যায় যে, আমরা অনেক ভাল প্রস্তুতি নেয়ার পরও পরীক্ষা আশানুরূপ হয় না। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে পরীক্ষার হলে করা কিছু ছোট ছোট ভুল। 

আমরা সবাই যেকোনো পরীক্ষাতে অবশ্যই আমাদের সেরাটা দিতে চাই কিন্তু এই কিছু ভুলের কারণে সেরাটা দিয়েও সেরা ফলাফলটা পেতে পারি না আমরা। চলো দেখে নেয়া যাক এমন ১০টি সাধারণ ভুল।

১। প্রশ্নপত্র ঠিকমত না পড়া
এই ভুলটা হচ্ছে অনেকটা “বিসমিল্লায় গলদ” এর মত। আমরা যত উপরের ক্লাসে উঠি, তত বড় বড় প্রশ্নের উত্তর আমাদের লিখতে হয়, আর এত বড় বড় উত্তর কিন্তু কোনোরকমে না বোঝার মত করে প্রশ্ন পড়ে লেখা অসম্ভব। এছাড়াও অনেক সময় পরিক্ষার্থীদের বিচলিত করার জন্যও কনফিউজিং প্রশ্ন করা হয়। সেক্ষেত্রেও শুধুমাত্র তারাই ঠিকমত উত্তর করতে পারে, যারা প্রশ্নটা ঠিকমত পড়ে।  

২। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো না দেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়া
একাডেমিক হোক আর অ্যাডমিশন টেস্ট, সকল প্রশ্নেই সাধারণত হুবহু না আসলেও বিগত বছরের কিছুটা ছোঁয়া থাকে। তাই পরীক্ষার আগে একটু সময় করে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে নিলে, প্রশ্ন কেমন হবে সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায় আর পড়ার সময় ছুটে গেছে এমন অনেক টপিকও বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করলে একবার দেখা হয়ে যায়।

৩। আগের রাতে পুরো বই হজম করার চেষ্টা করা
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা অনেক ভাল করেই জানি যে, পরীক্ষার আগের রাত ছাড়া কখনো পড়া হয় না কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেক মানুষেরই নির্দিষ্ট সহ্যসীমা রয়েছে যার বাইরে যাওয়া উচিত না।

যতটুকু সম্ভব, শুধুমাত্র ততটুকু পড়েই ঘুমাতে চলে যান। পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে শেষের দিকে যা পড়বেন, সেই পড়াটুকু থেকে আপনি পরীক্ষা দিতে দিয়ে যে উপকার পাবেন, এর থেকে অনেক বেশি উপকার পাবেন পড়া বাদ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে।

৪। অন্যদের রচনা লিখতে দেখে/অতিরিক্ত পৃষ্ঠা নিতে দেখে বিব্রতবোধ করা
আমাদের মাঝে একটা ভুল ধারণা আছে যে, শিক্ষকরা পৃষ্ঠা গুণে নম্বর দেন কিন্তু আসলে এমনটা নয়। কোনো শিক্ষকই প্রয়োজনের অতিরিক্ত লেখা পছন্দ করেন না। আর বেশিরভাগ শিক্ষক প্রশ্নের উত্তরটা পরিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত আকারে পেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যেকোনো পরীক্ষা শেষেই, শিক্ষকদের কাছে গিয়ে জমা হয় ৫০০-১০০০ খাতা যা একমাসের মাঝে দেখে দিতে হয়।

একবার নিজেদের শিক্ষকদের জায়গায় বসিয়ে দেখিতো, এমন পরিস্থিতিতে যখন কোনো শিক্ষকের সামনে অতিরিক্ত পৃষ্ঠার কোনো খাতা যায়, তখন তাঁর অনুভূতিটা কী হয়? তাই কাউকে বেশি লিখতে দেখে বিব্রতবোধ না করে বরং আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এই ভেবে যে, আমি যতটুকু লিখেছি তাই যথেষ্ট।

৫। সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা
আমরা অনেক সময় মনে করি যে, পরীক্ষার একদম শেষে যখন সময় কম থাকবে, তখন তাড়াতাড়ি করে সহজ প্রশ্নের উত্তর দিব। এখন কঠিনটা দিয়ে শুরু করি। যা করা একেবারেই ঠিক না কারণ পরীক্ষার সময় সবসময় অনেক রিল্যাক্সড মুডে থাকতে হয়। সেখানে, শুরুটাই যদি ব্রেইনস্টর্মিং এর মাঝে দিয়ে যায় তাহলে তা বাকি উত্তরগুলোর উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে আর কঠিন প্রশ্নের উত্তর না মিললে তো আর কথাই নেই।

৬। বুঝে উঠতে না পারা কোথায় শেষ করতে হবে
বাংলায় আমি সবসময় উপন্যাসের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শুরু করতাম। একবার করলাম কী, উপন্যাসের উত্তর সুন্দর করে লিখতে আমার এত ভাল লাগছিলো যে, আমি সময় ভুলে গিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখেই যাচ্ছিলাম এবং ফলশ্রুতিতে আমার বাকি উত্তরগুলো অনেক কম সময় নিয়ে সংক্ষেপে লিখতে হয়েছিল।



আমাদের অনেক বিষয়েরই কিছু কিছু টপিক অনেক প্রিয় থাকে যে টপিকের উত্তর লিখতে গেলে আর শেষ করতেই ইচ্ছা করে না। মনে রাখতে হবে যে, ১০ নম্বরের উত্তরে কখনো ১৫ দেয়া হয় না বরং ১০ নম্বরের প্রশ্নে ১৫ নম্বরের উত্তর দিলে, বাকি উত্তরগুলোর নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। আরো মনে রাখতে হবে যে, শিক্ষক আসলে আমরা উত্তরটা জানি কি না তা দেখতে চায়, আমাদের সাহিত্যিক প্রতিভা না।

৭। বুঝে উঠতে না পারা কোথায় হাল ছাড়তে হবে
পরীক্ষার সময় আমরা অনেক সময় জানা জিনিসও মনে করতে না পেরে মস্তিষ্কে চাপ দিয়ে তা মনে করার চেষ্টা করতেই থাকি যা একদম ঠিক না। এতে করে অনেক সময় নষ্ট হয়। তার চেয়ে বরং ঐ প্রশ্নটা একদম শেষে উত্তর করার জন্য রেখে দিতে হবে।  

৮। আগে আগে হল থেকে বেরিয়ে যাওয়া
আমাদের অনেকেরই পরীক্ষার সময় আগে আগে হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অভ্যাস আছে। হুম, কারো তাড়া থাকলে ঠিক আছে। না হলে শেষ মিনিট পর্যন্ত সবারই উচিত, পরীক্ষার উত্তরপত্রটা নিখুঁতভাবে বারবার দেখা কারণ অনেক ভুল একবারে চোখে পড়ে না। আমার এক সিনিয়র অনেক আগে আমাকে বলেছিলেন, “তোমাকে ৫ মিনিট দেয়া হলে সেটাকেই ইউটিলাইজ করার চেষ্টা কর।”

৯। পরীক্ষার আগে ভুল খাবার খাওয়া
পরীক্ষার আগে অনেকেই অনেক ভারী খাবার কিংবা রাস্তার কোনো খাবার খেয়ে ফেলে কিংবা পরীক্ষার দুশ্চিন্তায় সকালে না খেয়েই হলে ঢুকে যায় যাতে করে পরীক্ষা চলাকালীন শরীর খারাপ লাগা শুরু করে। পরীক্ষার আগে যথাসম্ভব অমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত যাতে করে মস্তিষ্ক ভাল কাজ করে।

১০। প্রয়োজনের চেয়ে কম পানি খাওয়া
পরীক্ষায় মনোযোগ না আসার একটা কারণ হচ্ছে পানিশূন্যতা। পানিশূন্যতার সময় মস্তিষ্ক ঠিকমত কাজ করতে পারে না।

মাঝে মাঝে আমাদের ছোট ছোট সমস্যাগুলোই বড় সমস্যার জন্ম দেয়। তাই আশা করি এই ছোট সমস্যাগুলো সমাধান করে ফেলতে পারলে পরীক্ষায় আর কোনো বড় সমস্যা হবে না।

বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ। আগে যে সময়টুকুতে বিভিন্ন সাহিত্যের আবেগে ভেসে যেত মানুষ, সে সময়টুকু এখন দ্রুতবেগে কেটে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে। শুধু দ্রুতবেগেই নয়, দৈনন্দিন জীবনের বড় একটা সময় হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে, অন্যের জীবনযাপন দেখতে দেখতে।


 অথচ এক বছরে যে সময়টুক সামাজিক মাধ্যমে বা টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখে কাটানো হয়, সে সময়ে পড়া যেত প্রায় এক হাজার বই। ব্যবস্থাপনা সংস্থা মিডিয়াকিক্স-এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণার বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে ভ্রমণবিষয়ক গণমাধ্যম ট্রাভেল লেজার।

গবেষণাটিতে জানা যায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ৫০ মিনিট করে সময় ব্যয় করে এগুলোর পেছনে। অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম, যেমন—স্ন্যাপচ্যাট, টুইটারে গড়ে ২৫ মিনিট করে ব্যয় করেন ব্যবহারকারীরা। অন্যদিকে, ইউটিউবের গান ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবন থেকে গড়ে ৪০ মিনিট করে কেড়ে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে গড়ে একটি মানুষ তার পুরো জীবনে প্রায় পাঁচ বছর চার মাস বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় করে।

অনলাইন গণমাধ্যম ‘বেটার হিউম্যানস’-এর প্রদায়ক চার্লস চু’য়ের মতে, এতটুকু সময়ে আপনি প্রচুর বই পড়তে পারবেন। অপর একটি গণমাধ্যম ‘কোয়ার্টজ’-এ  চু লিখেন, এক বছরে তিনি প্রায় ২০০টি বই পড়েছেন। এ জন্য তাঁকে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। শুধু তিনি সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে এনেছেন। শুধু মুখেই এ কথা বলে ক্ষান্ত হননি চার্লস চু। রীতিমতো অঙ্ক কষে প্রমাণ করেছেন নিজের কথার।

চু অঙ্ক কষে বের করেন, একজন মার্কিন নাগরিক প্রতি মিনিটে ২০০-৪০০ শব্দ পড়তে পারেন। ধরে নেওয়া যাক একজন পাঠক প্রতি মিনিটে পড়তে পারেন ৪০০ শব্দ। আর সাধারণ প্রবন্ধের বইগুলো হয় গড়ে ৫০ হাজার শব্দের। চু যতগুলো বই পড়তে চেয়েছিলেন, সেগুলোর সঙ্গে ৪০০ গুণ দেন, এরপর ভাগ দেন ৬০ মিনিট দিয়ে। এরপর দেখা যায় ২০০ বই পড়তে সময় লাগবে ৪১৭ ঘণ্টা।

চু’য়ের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে, একজন মানুষ প্রতিবছর ৬০৮ ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে এবং ১,৬৪২ ঘণ্টা টেলিভিশন দেখে কাটায়। যোগ করলে যা দাঁড়ায় ২২৫০ ঘণ্টায়। চু’য়ের হিসাব অনুযায়ী ২২৫০ ঘণ্টায় একজন মার্কিন পাঠক প্রায় ১০০০টি বই পড়তে পারবে, প্রতিবছর।

কোয়ার্টজে চু লিখেছেন, ‘এটি আসলে কঠিন কিছু নয়। আমাদের বই পড়ার যথেষ্ট সময় রয়েছে। এ জন্য আমাদের অবসর সময়গুলোতে টুইটারে তারকা এবং টিভিতে ‘ডেসপারেট হাউস ওয়াইভস’ না দেখে বই পড়া উচিত।’ এ ছাড়া বই পড়ার জন্য একটি নীরব ও শান্তিপূর্ণ জায়গা খোঁজার পরামর্শও দেন চু।

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা বিশেষ করে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া যতটা স্বচ্ছ হয়েছে, যত বেশি মেধাবীরা এখানে নিয়োগ পাচ্ছে সেই তুলনায় আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দিনকে দিন অস্বচ্ছ হয়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, বি‌শ্ববিদ্যালয়গু‌লো এখন মেরুদণ্ডহীন প্রাণীদের পুনর্বাসন কে‌ন্দ্রে প‌রিণত হ‌য়ে‌ছে।


না, আমি শুধু ধারণা থেকে কথাগুলো বলছি না। আমি বিসিএস বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কোনোটার জন্য চেষ্টা না করলেও আমার ১৫ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে বিশেষ করে সরকারি কর্মকমিশন নিয়মিত কাভার করার অভিজ্ঞতা থেকে কথাগুলো বলছি। বাংলা‌দে‌শের নি‌য়োগ প্র‌ক্রিয়া নি‌য়ে দীর্ঘ কা‌জের অ‌ভিজ্ঞতা থে‌কে কথাগু‌লো বলা।

আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি কোনো ধরনের তদবির ছাড়া যোগ্য মেধাবী একটা ছেলেমেয়ের কাছে একটা স্বপ্নের নাম বিসিএস। ‌কোটা সমস্যা, নি‌য়ো‌গের পর অান্তঃক্যাডার বৈষম্য এগু‌লো অা‌ছে কিন্তু ‌তদ‌বির ছাড়া শুধু পরিশ্রম আর লেখাপড়া দিয়ে একটা ছেলেমেয়ে এখনও বি‌সিএস দি‌য়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হতে পারে। ২৭ থেকে ৩৮ প্রতিটি বিসিএসসের নিয়োগ প্রক্রিয়া আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে সাদিক স্যার পিএসসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর আমি খুব ঘনিষ্ঠভাবে তার সাথে কাজ করেছি। স্যার নিয়োগ প্রক্রিয়া এমনভাবে করছেন যাতে মেধাবী সাধারণ ছেলেমেয়েরা নিয়োগ পায়। অার সে কার‌ণেই অাজ দুই হাজার প‌দের জন্য সা‌ড়ে তিন লাখ অা‌বেদন ক‌রে।

এবার অা‌সি শিক্ষক নি‌য়ো‌গে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাক‌তেই সাংবাদিকতার কারণে এবং প্রচুর বন্ধুবান্ধব ছোট ভাই বড় ভাই থাকার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আমি কা‌ছে থে‌কে দেখেছি, শুনেছি, যাচাই করেছি। অতীতে অনকবার এ নি‌য়ে বলেছি। আজও বলি।
অামার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সবচেয়ে জঘন্য। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম যোগ্যতা আপনাকে সরকার বা প্রশাসনের পছন্দের লোক হতে হবে। হ‌তে হ‌বে মেরুদণ্ডহীন। অাচ্ছা ‌নি‌য়ো‌গের অা‌গে কা‌রও না কা‌রও কা‌ছে যাওয়া ছাড়া কে কে শিক্ষক হ‌য়ে‌ছেন ব‌লেন তো? অা‌মি তো একজন‌কেও দে‌খি না। শুধু এই প্র‌ক্রিয়ার কার‌ণে অা‌মি কখ‌নও বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষক হওয়ার লড়াই‌য়ে না‌মি‌নি।

আপনারা কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন তিন চারটা প্রথম শ্রেণী পাওয়া লোকজনও তো নিয়োগ পাচ্ছে। য‌ত মেধাবীই হোক, তা‌দেরও একইভা‌বে বাধ্য হ‌য়ে কিংবা স্বেচ্ছায় কা‌রও না কারও কা‌ছে যে‌তে হয়। অারও অদ্ভুত বিষয় হলো কাকে প্রথম বানাবেন, প্রথম শ্রেণী দেবেন সেটাও অনেক সময় ঠিক করা থাকে। আর সরকার বা প্রশাসন চাইলে তো রেজাল্ট কোনো বিষয়ই না।


আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় কোনো সরকারি দপ্তরের পিয়ন নিয়োগ প্রক্রিয়াও এর চেয়ে ভালো। অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টো। যে কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী থেকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সবচেয়ে ভালো হওয়া উচিত ছিল। কারণ একজন অযোগ্য লোক শিক্ষক হওয়া মানে তার ৩০ থেকে ৩৫ বছর শিক্ষকতা জীব‌নে হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে বঞ্চিত করা। স‌ত্যি বল‌ছি অা‌মি এমন অ‌নেক‌কে পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষক হ‌তে দে‌খে‌ছি অামার অবাক লে‌গে‌ছে। অাবার অ‌নেক মেধাবী যোগ্য ছে‌লে‌কে দে‌খে‌ছি শিক্ষক হ‌তে পা‌রে‌নি তদ‌বির নেই ব‌লে।

যারা যোগ্য তা‌দের প্র‌তি সম্মান রে‌খে বল‌ছি, এই যে দিনের পর দিন অযোগ্য লোকজন শিক্ষক হচ্ছেন তার ফল কিন্তু আমরা পাচ্ছি। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৫ থেকে ২০ হাজার শিক্ষক। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই আঠারশ শিক্ষক। এর মধ্যে ১৮ জন শিক্ষকের নাম কী জাতি জানে, যারা গবেষণা করে দেশ জাতিকে কিছু দিয়েছেন কিংবা ছাত্রছাত্রী‌দের মন জয় কর‌তে পেরে‌ছেন দুর্দান্ত প‌ড়ি‌য়ে? অার গ‌বেষণার স‌ঙ্গে অাজকালকার শিক্ষক‌দের যোজন যোজন দূরত্ব। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাদে তো আমি আর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দেখি না, যারা দেশ জাতিকে কাঙ্খিত কিছু দিতে পারছেন।

আপনারা কেউ কেউ বলতে পারেন এর সমাধান কী? আমি বহু আগেই এর সমাধান দিয়েছি। শুধু নামমাত্র একটা ভাইভা দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের নাটক বন্ধ করা উচিত। এর বদলে যারা শিক্ষক হতে চায় তাদের সবার একটা নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হোক। এরপর তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হোক। এর পরেই শুরু করতে হবে মূল পর্ব। যারা শিক্ষক হতে আগ্রহী তাদের সবাইকে ক্লাসে ঢুকিয়ে দেওয়া উচিত। এবার ছাত্ররাই মূল্যায়ন করুক, নম্বর দিক কে হবে তাদের শিক্ষক।

শুধু যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের মূল্যায়নের সুযোগ রাখা উচিত তাই নয়, প্রতি বছর প্রত্যেক কোর্স শিক্ষকের মূল্যায়ন করুক ছাত্ররা। গবেষণা আর এই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী থেকে পদোন্নতি সবকিছু হোক। নয়‌তো সমস্যার সমাধান হ‌বে না।

আচ্ছা আপনারা আমাকে বলেন তো স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক জাতিকে কী দিয়েছেন? নাম জানতে চাইলে হাতে গোনা দুই চারটা নাম ছাড়া আর নাম বলতে পারবেন না। ঢাকা বাদ দিলাম চট্টগ্রাম, কু‌মিল্লা, রাজশাহীসহ দে‌শের অারও প্রায় অর্ধশত বিশ্ব‌বিদ্যালয়ে যা হয় সেটা শুন‌লে লজ্জায় কুক‌ড়ে যে‌তে হয়। এসব কারণেই ছাত্রছাত্রীরা তাদের একজন স্কুল শিক্ষককে যতটা সম্মান করে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে তার কানাকড়িও করতে পারে না।

আমার মনে হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক করতে না পারলে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে কে ভিসি হবেন, কে ডীন কে প্রভোস্ট এই লড়াইয়ের খোয়াড়ে পরিণত হবে। গবেষণা আর শিক্ষার বদলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনি পাবেন ক্ষমতা নিয়ে চর দখলের মতো মারামারি। শিক্ষকরা একজ‌ন‌কে নি‌য়ে অা‌রেকজন হাসাহা‌সি কর‌বেন। কিন্তু নি‌জের সমা‌লোচনা কর‌তে পার‌বেন না।

অা‌মি জা‌নি না, জাতির কর্ণধাররা ক‌বে বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। অাচ্ছা অামা‌দের শিক্ষকরা এত কিছু নি‌য়ে কথা ব‌লেন কিন্তু কেন তা‌দের নি‌য়োগ প্র‌ক্রিয়া নি‌য়ে কথা ব‌লেন না? জা‌নি না অার ক‌তটা ধ্বংস হ‌লে সবার ম‌নে হ‌বে য‌থেষ্ট হ‌য়ে‌ছে। তবু কামনা ক‌রি সবার বি‌বেক‌বোধ জাগ্রত হোক। মেরুদণ্ডটা সোজা হোক।

সদ্য প্রকাশিত ২০১৬ সালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেবল পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তার অভাবেই ৬৩ শতাংশ অ্যাকাউন্ট ‘হ্যাকড’ হয়।


যেকোনো আইডি ও অনলাইন তথ্য নিরাপদ রাখার প্রথম শর্ত, শক্তিশালী ও নিরাপদ পাসওয়ার্ড ব্যবহার। পাসওয়ার্ড নিরাপত্তায় এখানে বেশ কিছু পরামর্শ আলোচনা করা হলো :

১. পাসওয়ার্ড হোক নিজের মতো

ওয়ান টু থ্রি ফোর ফাইভ সিক্স অথবা নিজের নাম ও জন্মতারিখ—এ ধরনের সহজ ও বহুল ব্যবহৃত পাসওয়ার্ড দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। নিজের মতো করে এমন পাসওয়ার্ড সেট করুন, যেন কেউ অনুমানও না করতে পারে।

২. পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করুন

পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে পাসওয়ার্ড ম্যানেজার। কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন—সব ধরনের ডিভাইসে ব্যবহার উপযোগী এই অ্যাপ ব্যবহারে বারবার পাসওয়ার্ড টাইপ করতে হয় না। এ ছাড়া এটি সাহায্য করে সহজ কিন্তু অন্যদের জন্য অনুমান করা অসম্ভব, এমন পাসওয়ার্ড সেট করতে। শুধু তাই নয়, নির্ধারিত সময় শেষে এটি আপনাকে পাসওয়ার্ড বদলাতেও মনে করিয়ে দেবে।

৩. ভুলেও পাসওয়ার্ড কাউকে বলবেন/ দেখাবেন না

যতই কাছের মানুষ হোক না কেন, ভুল করেও কোনো পাসওয়ার্ড কখনোই কাউকে বলা বা দেখানো উচিত নয়। আজ সম্পর্ক ভালো হলেও কাল কোনো কারণে তা খারাপ হলে কিংবা ওই ব্যক্তির অসেচতনতায় এটি যেকোনো সময় আপনার জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

৪. নির্ধারিত সময় পরপর পাসওয়ার্ড বদলান

অনলাইনে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে ভালো উপায় নির্ধারিত সময় পরপর পাসওয়ার্ড বদলে ফেলা। মনে রাখতে হবে, নতুন পাসওয়ার্ডটি যেন কোনোভাবেই আগেরটির সঙ্গে মিলে না যায় বা ক্রমিকও না হয় (যেমন : আগের পাসওয়ার্ড jackpot ছিল তো এবার দিলেন jackpot2—এমনটা কখনোই করবেন না)।

৫. পাসওয়ার্ড হোক অন্তত আট অক্ষরের

পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তায় এর আকার একটি অন্যতম রিস্ক ফ্যাক্টর। যতটুকু সম্ভব বড় (অন্তত আট অক্ষরের) পাসওয়ার্ড সেট করুন।

৬. পাসওয়ার্ড হবে বর্ণ, সংখ্যা ও চিহ্ন মিলিয়ে

একটি আদর্শ পাসওয়ার্ডে বর্ণ, সংখ্যা ও চিহ্ন—সবকিছুরই সমন্বয় থাকতে হবে। ডিকশনারিতে নেই এমন শব্দ নিয়ে বড় ও ছোট হাতের অক্ষরে ভেঙে তার সঙ্গে সংখ্যা ও চিহ্ন মিলিয়ে এমনভাবে সাজান যেন কেউ কোনোভাবেই অনুমান না করতে পারে। পাসওয়ার্ড কোথাও আলাদা করে লিখে বা সেভ করে রাখবেন না।

৭. টুএফএ ব্যবহার

পাসওয়ার্ডের নিরাপত্তায় সর্বাধুনিক প্রযুক্তি টুএফএ। এখন কমবেশি সব সাইটই টুএফএ তথা টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন সাপোর্ট করে—এটি ব্যবহারে কোনো আইডির জন্য পাসওয়ার্ড দেওয়ার পর স্বনির্ধারিত মোবাইল বা অ্যাপে একটি তাৎক্ষণিক কোড আসবে। এই কোড পুনরায় পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করেই কেবল লগইন করা যাবে। এতে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড কোনোভাবে জেনে গেলেও তা হ্যাক করতে পারবে না।

Related Post

[random][carousel2][#e74c3c]
{picture#YOUR_PROFILE_PICTURE_URL} YOUR_PROFILE_DESCRIPTION {facebook#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {twitter#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {google#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}
Powered by Blogger.