Halloween party ideas 2015
Showing posts with label Job. Show all posts

মাঝে মাঝেই দেখা যায় যে, আমরা অনেক ভাল প্রস্তুতি নেয়ার পরও পরীক্ষা আশানুরূপ হয় না। এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে পরীক্ষার হলে করা কিছু ছোট ছোট ভুল। 

আমরা সবাই যেকোনো পরীক্ষাতে অবশ্যই আমাদের সেরাটা দিতে চাই কিন্তু এই কিছু ভুলের কারণে সেরাটা দিয়েও সেরা ফলাফলটা পেতে পারি না আমরা। চলো দেখে নেয়া যাক এমন ১০টি সাধারণ ভুল।

১। প্রশ্নপত্র ঠিকমত না পড়া
এই ভুলটা হচ্ছে অনেকটা “বিসমিল্লায় গলদ” এর মত। আমরা যত উপরের ক্লাসে উঠি, তত বড় বড় প্রশ্নের উত্তর আমাদের লিখতে হয়, আর এত বড় বড় উত্তর কিন্তু কোনোরকমে না বোঝার মত করে প্রশ্ন পড়ে লেখা অসম্ভব। এছাড়াও অনেক সময় পরিক্ষার্থীদের বিচলিত করার জন্যও কনফিউজিং প্রশ্ন করা হয়। সেক্ষেত্রেও শুধুমাত্র তারাই ঠিকমত উত্তর করতে পারে, যারা প্রশ্নটা ঠিকমত পড়ে।  

২। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো না দেখে পরীক্ষা দিতে যাওয়া
একাডেমিক হোক আর অ্যাডমিশন টেস্ট, সকল প্রশ্নেই সাধারণত হুবহু না আসলেও বিগত বছরের কিছুটা ছোঁয়া থাকে। তাই পরীক্ষার আগে একটু সময় করে বিগত বছরের প্রশ্নগুলো দেখে নিলে, প্রশ্ন কেমন হবে সে বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায় আর পড়ার সময় ছুটে গেছে এমন অনেক টপিকও বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করলে একবার দেখা হয়ে যায়।

৩। আগের রাতে পুরো বই হজম করার চেষ্টা করা
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা অনেক ভাল করেই জানি যে, পরীক্ষার আগের রাত ছাড়া কখনো পড়া হয় না কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, প্রত্যেক মানুষেরই নির্দিষ্ট সহ্যসীমা রয়েছে যার বাইরে যাওয়া উচিত না।

যতটুকু সম্ভব, শুধুমাত্র ততটুকু পড়েই ঘুমাতে চলে যান। পরীক্ষার আগের রাতে ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে শেষের দিকে যা পড়বেন, সেই পড়াটুকু থেকে আপনি পরীক্ষা দিতে দিয়ে যে উপকার পাবেন, এর থেকে অনেক বেশি উপকার পাবেন পড়া বাদ দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লে।

৪। অন্যদের রচনা লিখতে দেখে/অতিরিক্ত পৃষ্ঠা নিতে দেখে বিব্রতবোধ করা
আমাদের মাঝে একটা ভুল ধারণা আছে যে, শিক্ষকরা পৃষ্ঠা গুণে নম্বর দেন কিন্তু আসলে এমনটা নয়। কোনো শিক্ষকই প্রয়োজনের অতিরিক্ত লেখা পছন্দ করেন না। আর বেশিরভাগ শিক্ষক প্রশ্নের উত্তরটা পরিপূর্ণভাবে সংক্ষিপ্ত আকারে পেতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। যেকোনো পরীক্ষা শেষেই, শিক্ষকদের কাছে গিয়ে জমা হয় ৫০০-১০০০ খাতা যা একমাসের মাঝে দেখে দিতে হয়।

একবার নিজেদের শিক্ষকদের জায়গায় বসিয়ে দেখিতো, এমন পরিস্থিতিতে যখন কোনো শিক্ষকের সামনে অতিরিক্ত পৃষ্ঠার কোনো খাতা যায়, তখন তাঁর অনুভূতিটা কী হয়? তাই কাউকে বেশি লিখতে দেখে বিব্রতবোধ না করে বরং আত্মবিশ্বাসী হতে হবে এই ভেবে যে, আমি যতটুকু লিখেছি তাই যথেষ্ট।

৫। সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন দিয়ে শুরু করা
আমরা অনেক সময় মনে করি যে, পরীক্ষার একদম শেষে যখন সময় কম থাকবে, তখন তাড়াতাড়ি করে সহজ প্রশ্নের উত্তর দিব। এখন কঠিনটা দিয়ে শুরু করি। যা করা একেবারেই ঠিক না কারণ পরীক্ষার সময় সবসময় অনেক রিল্যাক্সড মুডে থাকতে হয়। সেখানে, শুরুটাই যদি ব্রেইনস্টর্মিং এর মাঝে দিয়ে যায় তাহলে তা বাকি উত্তরগুলোর উপর খারাপ প্রভাব ফেলবে আর কঠিন প্রশ্নের উত্তর না মিললে তো আর কথাই নেই।

৬। বুঝে উঠতে না পারা কোথায় শেষ করতে হবে
বাংলায় আমি সবসময় উপন্যাসের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে শুরু করতাম। একবার করলাম কী, উপন্যাসের উত্তর সুন্দর করে লিখতে আমার এত ভাল লাগছিলো যে, আমি সময় ভুলে গিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখেই যাচ্ছিলাম এবং ফলশ্রুতিতে আমার বাকি উত্তরগুলো অনেক কম সময় নিয়ে সংক্ষেপে লিখতে হয়েছিল।



আমাদের অনেক বিষয়েরই কিছু কিছু টপিক অনেক প্রিয় থাকে যে টপিকের উত্তর লিখতে গেলে আর শেষ করতেই ইচ্ছা করে না। মনে রাখতে হবে যে, ১০ নম্বরের উত্তরে কখনো ১৫ দেয়া হয় না বরং ১০ নম্বরের প্রশ্নে ১৫ নম্বরের উত্তর দিলে, বাকি উত্তরগুলোর নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। আরো মনে রাখতে হবে যে, শিক্ষক আসলে আমরা উত্তরটা জানি কি না তা দেখতে চায়, আমাদের সাহিত্যিক প্রতিভা না।

৭। বুঝে উঠতে না পারা কোথায় হাল ছাড়তে হবে
পরীক্ষার সময় আমরা অনেক সময় জানা জিনিসও মনে করতে না পেরে মস্তিষ্কে চাপ দিয়ে তা মনে করার চেষ্টা করতেই থাকি যা একদম ঠিক না। এতে করে অনেক সময় নষ্ট হয়। তার চেয়ে বরং ঐ প্রশ্নটা একদম শেষে উত্তর করার জন্য রেখে দিতে হবে।  

৮। আগে আগে হল থেকে বেরিয়ে যাওয়া
আমাদের অনেকেরই পরীক্ষার সময় আগে আগে হল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অভ্যাস আছে। হুম, কারো তাড়া থাকলে ঠিক আছে। না হলে শেষ মিনিট পর্যন্ত সবারই উচিত, পরীক্ষার উত্তরপত্রটা নিখুঁতভাবে বারবার দেখা কারণ অনেক ভুল একবারে চোখে পড়ে না। আমার এক সিনিয়র অনেক আগে আমাকে বলেছিলেন, “তোমাকে ৫ মিনিট দেয়া হলে সেটাকেই ইউটিলাইজ করার চেষ্টা কর।”

৯। পরীক্ষার আগে ভুল খাবার খাওয়া
পরীক্ষার আগে অনেকেই অনেক ভারী খাবার কিংবা রাস্তার কোনো খাবার খেয়ে ফেলে কিংবা পরীক্ষার দুশ্চিন্তায় সকালে না খেয়েই হলে ঢুকে যায় যাতে করে পরীক্ষা চলাকালীন শরীর খারাপ লাগা শুরু করে। পরীক্ষার আগে যথাসম্ভব অমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত যাতে করে মস্তিষ্ক ভাল কাজ করে।

১০। প্রয়োজনের চেয়ে কম পানি খাওয়া
পরীক্ষায় মনোযোগ না আসার একটা কারণ হচ্ছে পানিশূন্যতা। পানিশূন্যতার সময় মস্তিষ্ক ঠিকমত কাজ করতে পারে না।

মাঝে মাঝে আমাদের ছোট ছোট সমস্যাগুলোই বড় সমস্যার জন্ম দেয়। তাই আশা করি এই ছোট সমস্যাগুলো সমাধান করে ফেলতে পারলে পরীক্ষায় আর কোনো বড় সমস্যা হবে না।

বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ। আগে যে সময়টুকুতে বিভিন্ন সাহিত্যের আবেগে ভেসে যেত মানুষ, সে সময়টুকু এখন দ্রুতবেগে কেটে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে। শুধু দ্রুতবেগেই নয়, দৈনন্দিন জীবনের বড় একটা সময় হারিয়ে যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে, অন্যের জীবনযাপন দেখতে দেখতে।


 অথচ এক বছরে যে সময়টুক সামাজিক মাধ্যমে বা টেলিভিশনে অনুষ্ঠান দেখে কাটানো হয়, সে সময়ে পড়া যেত প্রায় এক হাজার বই। ব্যবস্থাপনা সংস্থা মিডিয়াকিক্স-এর সাম্প্রতিক একটি গবেষণার বরাত দিয়ে এমনটাই জানিয়েছে ভ্রমণবিষয়ক গণমাধ্যম ট্রাভেল লেজার।

গবেষণাটিতে জানা যায়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন গড়ে ৫০ মিনিট করে সময় ব্যয় করে এগুলোর পেছনে। অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম, যেমন—স্ন্যাপচ্যাট, টুইটারে গড়ে ২৫ মিনিট করে ব্যয় করেন ব্যবহারকারীরা। অন্যদিকে, ইউটিউবের গান ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবন থেকে গড়ে ৪০ মিনিট করে কেড়ে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে গড়ে একটি মানুষ তার পুরো জীবনে প্রায় পাঁচ বছর চার মাস বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ব্যয় করে।

অনলাইন গণমাধ্যম ‘বেটার হিউম্যানস’-এর প্রদায়ক চার্লস চু’য়ের মতে, এতটুকু সময়ে আপনি প্রচুর বই পড়তে পারবেন। অপর একটি গণমাধ্যম ‘কোয়ার্টজ’-এ  চু লিখেন, এক বছরে তিনি প্রায় ২০০টি বই পড়েছেন। এ জন্য তাঁকে খুব বেশি কষ্ট করতে হয়নি। শুধু তিনি সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার কিছুটা কমিয়ে এনেছেন। শুধু মুখেই এ কথা বলে ক্ষান্ত হননি চার্লস চু। রীতিমতো অঙ্ক কষে প্রমাণ করেছেন নিজের কথার।

চু অঙ্ক কষে বের করেন, একজন মার্কিন নাগরিক প্রতি মিনিটে ২০০-৪০০ শব্দ পড়তে পারেন। ধরে নেওয়া যাক একজন পাঠক প্রতি মিনিটে পড়তে পারেন ৪০০ শব্দ। আর সাধারণ প্রবন্ধের বইগুলো হয় গড়ে ৫০ হাজার শব্দের। চু যতগুলো বই পড়তে চেয়েছিলেন, সেগুলোর সঙ্গে ৪০০ গুণ দেন, এরপর ভাগ দেন ৬০ মিনিট দিয়ে। এরপর দেখা যায় ২০০ বই পড়তে সময় লাগবে ৪১৭ ঘণ্টা।

চু’য়ের অনুসন্ধানে বের হয়ে আসে, একজন মানুষ প্রতিবছর ৬০৮ ঘণ্টা সামাজিক মাধ্যমে এবং ১,৬৪২ ঘণ্টা টেলিভিশন দেখে কাটায়। যোগ করলে যা দাঁড়ায় ২২৫০ ঘণ্টায়। চু’য়ের হিসাব অনুযায়ী ২২৫০ ঘণ্টায় একজন মার্কিন পাঠক প্রায় ১০০০টি বই পড়তে পারবে, প্রতিবছর।

কোয়ার্টজে চু লিখেছেন, ‘এটি আসলে কঠিন কিছু নয়। আমাদের বই পড়ার যথেষ্ট সময় রয়েছে। এ জন্য আমাদের অবসর সময়গুলোতে টুইটারে তারকা এবং টিভিতে ‘ডেসপারেট হাউস ওয়াইভস’ না দেখে বই পড়া উচিত।’ এ ছাড়া বই পড়ার জন্য একটি নীরব ও শান্তিপূর্ণ জায়গা খোঁজার পরামর্শও দেন চু।

বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তা বিশেষ করে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়া যতটা স্বচ্ছ হয়েছে, যত বেশি মেধাবীরা এখানে নিয়োগ পাচ্ছে সেই তুলনায় আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া দিনকে দিন অস্বচ্ছ হয়ে অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, বি‌শ্ববিদ্যালয়গু‌লো এখন মেরুদণ্ডহীন প্রাণীদের পুনর্বাসন কে‌ন্দ্রে প‌রিণত হ‌য়ে‌ছে।


না, আমি শুধু ধারণা থেকে কথাগুলো বলছি না। আমি বিসিএস বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা কোনোটার জন্য চেষ্টা না করলেও আমার ১৫ বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থেকে বিশেষ করে সরকারি কর্মকমিশন নিয়মিত কাভার করার অভিজ্ঞতা থেকে কথাগুলো বলছি। বাংলা‌দে‌শের নি‌য়োগ প্র‌ক্রিয়া নি‌য়ে দীর্ঘ কা‌জের অ‌ভিজ্ঞতা থে‌কে কথাগু‌লো বলা।

আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি কোনো ধরনের তদবির ছাড়া যোগ্য মেধাবী একটা ছেলেমেয়ের কাছে একটা স্বপ্নের নাম বিসিএস। ‌কোটা সমস্যা, নি‌য়ো‌গের পর অান্তঃক্যাডার বৈষম্য এগু‌লো অা‌ছে কিন্তু ‌তদ‌বির ছাড়া শুধু পরিশ্রম আর লেখাপড়া দিয়ে একটা ছেলেমেয়ে এখনও বি‌সিএস দি‌য়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা হতে পারে। ২৭ থেকে ৩৮ প্রতিটি বিসিএসসের নিয়োগ প্রক্রিয়া আমার দেখার সুযোগ হয়েছে। বিশেষ করে সাদিক স্যার পিএসসির চেয়ারম্যান হওয়ার পর আমি খুব ঘনিষ্ঠভাবে তার সাথে কাজ করেছি। স্যার নিয়োগ প্রক্রিয়া এমনভাবে করছেন যাতে মেধাবী সাধারণ ছেলেমেয়েরা নিয়োগ পায়। অার সে কার‌ণেই অাজ দুই হাজার প‌দের জন্য সা‌ড়ে তিন লাখ অা‌বেদন ক‌রে।

এবার অা‌সি শিক্ষক নি‌য়ো‌গে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাক‌তেই সাংবাদিকতার কারণে এবং প্রচুর বন্ধুবান্ধব ছোট ভাই বড় ভাই থাকার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আমি কা‌ছে থে‌কে দেখেছি, শুনেছি, যাচাই করেছি। অতীতে অনকবার এ নি‌য়ে বলেছি। আজও বলি।
অামার কাছে মনে হয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সবচেয়ে জঘন্য। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রথম যোগ্যতা আপনাকে সরকার বা প্রশাসনের পছন্দের লোক হতে হবে। হ‌তে হ‌বে মেরুদণ্ডহীন। অাচ্ছা ‌নি‌য়ো‌গের অা‌গে কা‌রও না কা‌রও কা‌ছে যাওয়া ছাড়া কে কে শিক্ষক হ‌য়ে‌ছেন ব‌লেন তো? অা‌মি তো একজন‌কেও দে‌খি না। শুধু এই প্র‌ক্রিয়ার কার‌ণে অা‌মি কখ‌নও বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষক হওয়ার লড়াই‌য়ে না‌মি‌নি।

আপনারা কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন তিন চারটা প্রথম শ্রেণী পাওয়া লোকজনও তো নিয়োগ পাচ্ছে। য‌ত মেধাবীই হোক, তা‌দেরও একইভা‌বে বাধ্য হ‌য়ে কিংবা স্বেচ্ছায় কা‌রও না কারও কা‌ছে যে‌তে হয়। অারও অদ্ভুত বিষয় হলো কাকে প্রথম বানাবেন, প্রথম শ্রেণী দেবেন সেটাও অনেক সময় ঠিক করা থাকে। আর সরকার বা প্রশাসন চাইলে তো রেজাল্ট কোনো বিষয়ই না।


আমার মাঝে মধ্যে মনে হয় কোনো সরকারি দপ্তরের পিয়ন নিয়োগ প্রক্রিয়াও এর চেয়ে ভালো। অথচ হওয়ার কথা ছিল উল্টো। যে কোনো দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী থেকে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সবচেয়ে ভালো হওয়া উচিত ছিল। কারণ একজন অযোগ্য লোক শিক্ষক হওয়া মানে তার ৩০ থেকে ৩৫ বছর শিক্ষকতা জীব‌নে হাজার হাজার ছেলেমেয়েকে বঞ্চিত করা। স‌ত্যি বল‌ছি অা‌মি এমন অ‌নেক‌কে পাব‌লিক বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের শিক্ষক হ‌তে দে‌খে‌ছি অামার অবাক লে‌গে‌ছে। অাবার অ‌নেক মেধাবী যোগ্য ছে‌লে‌কে দে‌খে‌ছি শিক্ষক হ‌তে পা‌রে‌নি তদ‌বির নেই ব‌লে।

যারা যোগ্য তা‌দের প্র‌তি সম্মান রে‌খে বল‌ছি, এই যে দিনের পর দিন অযোগ্য লোকজন শিক্ষক হচ্ছেন তার ফল কিন্তু আমরা পাচ্ছি। বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১৫ থেকে ২০ হাজার শিক্ষক। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই আঠারশ শিক্ষক। এর মধ্যে ১৮ জন শিক্ষকের নাম কী জাতি জানে, যারা গবেষণা করে দেশ জাতিকে কিছু দিয়েছেন কিংবা ছাত্রছাত্রী‌দের মন জয় কর‌তে পেরে‌ছেন দুর্দান্ত প‌ড়ি‌য়ে? অার গ‌বেষণার স‌ঙ্গে অাজকালকার শিক্ষক‌দের যোজন যোজন দূরত্ব। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাদে তো আমি আর কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় দেখি না, যারা দেশ জাতিকে কাঙ্খিত কিছু দিতে পারছেন।

আপনারা কেউ কেউ বলতে পারেন এর সমাধান কী? আমি বহু আগেই এর সমাধান দিয়েছি। শুধু নামমাত্র একটা ভাইভা দিয়ে শিক্ষক নিয়োগের নাটক বন্ধ করা উচিত। এর বদলে যারা শিক্ষক হতে চায় তাদের সবার একটা নূন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হোক। এরপর তাদের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হোক। এর পরেই শুরু করতে হবে মূল পর্ব। যারা শিক্ষক হতে আগ্রহী তাদের সবাইকে ক্লাসে ঢুকিয়ে দেওয়া উচিত। এবার ছাত্ররাই মূল্যায়ন করুক, নম্বর দিক কে হবে তাদের শিক্ষক।

শুধু যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের মূল্যায়নের সুযোগ রাখা উচিত তাই নয়, প্রতি বছর প্রত্যেক কোর্স শিক্ষকের মূল্যায়ন করুক ছাত্ররা। গবেষণা আর এই মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষকদের চাকরি স্থায়ী থেকে পদোন্নতি সবকিছু হোক। নয়‌তো সমস্যার সমাধান হ‌বে না।

আচ্ছা আপনারা আমাকে বলেন তো স্বাধীনতার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষক জাতিকে কী দিয়েছেন? নাম জানতে চাইলে হাতে গোনা দুই চারটা নাম ছাড়া আর নাম বলতে পারবেন না। ঢাকা বাদ দিলাম চট্টগ্রাম, কু‌মিল্লা, রাজশাহীসহ দে‌শের অারও প্রায় অর্ধশত বিশ্ব‌বিদ্যালয়ে যা হয় সেটা শুন‌লে লজ্জায় কুক‌ড়ে যে‌তে হয়। এসব কারণেই ছাত্রছাত্রীরা তাদের একজন স্কুল শিক্ষককে যতটা সম্মান করে একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষককে তার কানাকড়িও করতে পারে না।

আমার মনে হয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক করতে না পারলে আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে কে ভিসি হবেন, কে ডীন কে প্রভোস্ট এই লড়াইয়ের খোয়াড়ে পরিণত হবে। গবেষণা আর শিক্ষার বদলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আপনি পাবেন ক্ষমতা নিয়ে চর দখলের মতো মারামারি। শিক্ষকরা একজ‌ন‌কে নি‌য়ে অা‌রেকজন হাসাহা‌সি কর‌বেন। কিন্তু নি‌জের সমা‌লোচনা কর‌তে পার‌বেন না।

অা‌মি জা‌নি না, জাতির কর্ণধাররা ক‌বে বিষয়গুলো বিবেচনা করবেন। অাচ্ছা অামা‌দের শিক্ষকরা এত কিছু নি‌য়ে কথা ব‌লেন কিন্তু কেন তা‌দের নি‌য়োগ প্র‌ক্রিয়া নি‌য়ে কথা ব‌লেন না? জা‌নি না অার ক‌তটা ধ্বংস হ‌লে সবার ম‌নে হ‌বে য‌থেষ্ট হ‌য়ে‌ছে। তবু কামনা ক‌রি সবার বি‌বেক‌বোধ জাগ্রত হোক। মেরুদণ্ডটা সোজা হোক।

আপনি কি স্টুডেন্ট হিসেবে ভালো না? পড়াশোনায় মন বসে না? পড়াশোনার চেয়ে অন্যান্য বিষয়ে আগ্রহ বেশি? তাহলে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। আপনার মাঝে সফল ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য আছে। অর্থাৎ আপনার ভবিষ্যতে সফল ব্যক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ভাবছেন কীভাবে? তাহলে শুনুনু। ওয়াল্ট ডিজনি, যিনি আমেরিকার একজন বিখ্যাত উদ্যোক্তা, অ্যানিমেটর, কণ্ঠশিল্পী এবং ফিল্ম প্রডিউসার ছিলেন এবং যিনি আমাদের সবার মাঝে এক কল্পনার রাজ্য উন্মুক্ত করে দিয়েছিলেন তিনি পড়াশোনায় খুব খারাপ ছিলেন।



থমাস আলভা এডিসন, যিনি বাল্ব এর উজ্জ্বলতা দিয়ে আমাদের চারপাশের অন্ধকার দূর করেছিলেন তিনিও ডিস্লেক্সিক (পড়া, লেখা, বানান করে শেখার এক সাধারণ সমস্যা) ছিলেন। আবার উইনস্টন চার্চিল, যিনি বিশিষ্ট বক্তা ও কূটনীতিজ্ঞ ব্যক্তি এবং লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, যিনি বিখ্যাত মোনালিসার সৃষ্টিকর্তা, তাদের দুজনেরও লেখাপড়ায় অনীহা ছিল। সত্যি বলতে কি, প্রকৃতি আমাদের অনেকসময় ভুলভাবে উপস্থাপন করে। যারা প্রাতিষ্ঠানিক নথিতে ব্যর্থ ও অদক্ষ হিসেবে নাম লেখান তারাই জীবনে এমন সফল ব্যক্তিতে পরিণত হন যাদের জন্য আমরা প্রতিনিয়ত গর্ববোধ করি। এই ব্যক্তিগুলো তারই উদাহরণ। কিন্তু জানেন কি, এই সফল ব্যক্তিগুলো কেন স্কুলজীবনে ভালো করেন না? কারণ-

১. তারা সবসময় ছকের বাইরে চিন্তা করেন

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, ‘জ্ঞানের চেয়ে কল্পনাশক্তি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ’। রীতিবিরুদ্ধ বিষয়গুলো সবসময়ই সফল ব্যক্তিদের তাড়া করে বেড়ায়। তারা নিয়মের বাইরে গিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন এবং নিজের চিন্তা-ভাবনা দিয়ে নতুন আইডিয়া বের করার চেষ্টা করেন। তাদের অনেকের কাছেই স্কুলকে জেলখানা ছাড়া আর কিছুই মনে হয় না। কেননা স্কুলের ধরাবাঁধা নিয়মের ভেতরে তাদের অনুভূতি ও চিন্তাগুলো ডানা মেলতে পারে না। অন্তর্নির্মিত ক্ষমতাসম্পন্ন এই ব্যক্তিগুলো কারাবাসসদৃশ স্কুলের নিয়মগুলোকে তাই কখনই মেনে নিতে পারেন না। আর এজন্যই তারা সবসময়ই ছক ভাঙার চেষ্টায় নিয়োজিত থাকেন।

২. তারা বইয়ের পোকা নন

আলবার্ট আইনস্টাইন বলেছেন, ‘যারা মাত্রাতিরিক্ত বই পড়েন এবং নিজের মস্তিষ্ককে কম কাজে লাগান তাদের চিন্তা-ভাবনার অভ্যাসে মূলত অলসতা চলে আসে।’ কিছু মানুষ আছে যারা পরীক্ষা প্রস্তুতিতে বই ছাড়া কিছুই বোঝেন না। তারা পাঠ্য-পুস্তকেই সবসময় মাথা ডুবিয়ে রাখেন। এরা আসলে বাস্তব জগৎ থেকে অনেকটা দূরে। কিন্তু সফল ব্যক্তিরা মূলত পড়াশোনা এবং জ্ঞান আহরণের মাঝে পার্থক্য বোঝেন। আর সেই জ্ঞান দিয়ে কী করে পরের উপকার করা যায় তা বের করার চেষ্টা করেন। তারা জানেন যে, বই পড়ে যেটুকু জানা যাবে বাস্তবিক অনুশীলনে তার চেয়ে অধিক গুণ বেশি জানা যাবে। আর এ কারণেই তারা একেবারেই বইয়ের ভিতরে নিজেকে বেঁধে রাখেন না বরং প্রকৃতির উন্মুক্ত দ্বারেও জ্ঞান আহরণের জন্য নিজেকে পরিচালনা করেন।

৩. তারা আত্ম-শিক্ষণে বিশ্বাসী

আমেরিকার উদ্যোক্তা, লেখক এবং মেটিভেশনাল স্পিকার জিম রোহান বলেন, ‘প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা হয়ত তোমাকে জীবিকা দিবে কিন্তু আত্ম-শিক্ষা তোমাকে একটি ভাগ্য দিবে।’ অনেকেই কেন স্কুলকে পরম শিক্ষার স্থান মনে করছেন না? কারণ, তারা এর চেয়ে আত্ম-শিক্ষণ পদ্ধতিকে বেশি গুরুত্ব দেন। সফল ব্যক্তিরা মনে করেন, স্কুলের নির্দিষ্ট সিলেবাস কোনো বিষয়ের নির্দিষ্ট অংশই শেখায় কিন্তু আত্ম-শিক্ষণের কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। তাই তারা ইচ্ছামতো শিখতে পারেন, জানতে পারেন। ফলে একপর্যায়ে আত্মশিক্ষা-ই তাদের কাছে প্রিয় শিক্ষকে পরিণত হয়।

৪. তারা কারও অধীনে থাকতে পছন্দ করেন না

স্কুলজীবনটা বলতে গেলে এক ধরনের অধীনতা। ‘জ্বি স্যার’, ‘না স্যার’ এই করতেই যায়। সফল ব্যক্তিরা এই অধীনতা পছন্দ করেন না। জিম রোহান বলেন, ‘পরামর্শ নাও কিন্তু আদেশ না।’ স্কুলের কিছু নিয়ম-কানুন আছে। পাশাপাশি পড়াশোনা করার এক ধরনের আদেশও দেয়া হয়ে থাকে যা সফল ব্যক্তিরা একেবারেই পছন্দ করেন না। আর এ কারণেই তারা স্কুলে ভালো ছাত্রের অবস্থানে যেতে পারেন না।

৫. তারা গ্রেড সিস্টেমে নিজেদের যোগ্যতা পরিমাপ করেন না

মার্কিন সিনেটর চাক গ্র্যাসলে বলেন, ‘স্কুলের ভালো গ্রেড দিয়েই বোঝা যায় না যে একটা শিশু কতটা প্রতিভাসম্পন্ন এবং মেধাবী, কিন্তু বিশ্বের শিক্ষায় এটাই ভিন্ন এক উপায়।’ যারা নিয়মের ভিন্নতা চান এবং বিশ্বের বুকে তাদের নাম রেখে যেতে চান তারা বহুল প্রচলিত এই গ্রেড সিস্টেমে কখনই বিশ্বাসী হন না। তারা কখনই এই মানদন্ডে নিজের যোগ্যতাকে যাচাই করেন না। তারা পড়াশোনা করেন জানার জন্য, ক্লাসের সর্বোচ্চ নম্বরধারী ছাত্র হওয়ার জন্য নয়। আর এ কারণেই হয়ত তারা ক্লাসের ভালো ছাত্রটি হয়ে উঠতে পারেন না।

৬. সফলতাকে তারা ভিন্নভাবে পরিমাপ করেন

মাইক্রেসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেন, ‘আমি স্কুলের পরীক্ষায় কিছু বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলাম এবং আমার এক বন্ধু সব বিষয়েই কৃতকার্য হয়েছিল। এখন আমার সেই বন্ধুটি মাইক্রোসফটের একজন প্রকৌশলী এবং আমি মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা।’ একজন ব্যক্তির কোনটা থাকাটা বেশি জরুরি- একটা ভালো রেজাল্ট, একটা ভালো ডিগ্রি, একটা ভালো চাকরি? এমন অসংখ্য ডিগ্রিধারী ও ভালো রেজাল্ট করা ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে যাদের আমরা চিনিও না। কিন্তু যারা জীবনে সফল হয়েছেন এবং পৃথিবীর জন্য ভালো কিছু করে গেছেন তাদের বেশিরভাগেরই প্রাতিষ্ঠানিক রেজাল্ট ভালো ছিল না। তাদের কাছে সফলতা হলো আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, জ্ঞান, সংকল্প এবং জ্ঞানালোকের মিশ্রণ। আর এ কারণেই তারা স্কুলের পরীক্ষার খাতায় হয়ত সফল হতে পারেননি।

৭. তারা রুটিন অনুসরণ করতে পছন্দ করেন না

সফল ব্যক্তিরা জীবনে কোনো ধরনের রুটিন-ই মানতে চান না বা পছন্দ করেন না। তারা মনে করেন, সারাদিন ক্লাসে বসে থেকে একঘেঁয়ে লেকচার শোনার চেয়ে বাস্তব জীবনের সতেজ অভিজ্ঞতা অর্জন করা বেশি আনন্দদায়ক। আর এই কারণেই তারা ক্লাসে মনোযোগী হন না।

৮. লক্ষ্য পূরণের অনুভূতি তাদের জীবনে তাড়াতাড়ি আসে

আমেরিকার বিখ্যাত রেডিও ব্যক্তিত্ব, লেখক, বক্তা আর্ল নাইটিঙ্গেল বলেন, ‘যাদের লক্ষ্য আছে তারাই জীবনে সফল হয় কারণ জানে যে তারা কোথায় যাচ্ছে।’ বলা হয় যে, সফল ব্যক্তিরা জন্ম থেকে মেধাবী হয়ে থাকেন যারা শুধু জীবনে চলার পথে তাদের দক্ষতাগুলো ঝালাই করে সামনে এগিয়ে যান। তারা জানেন যে তাদের জীবনের লক্ষ্য কী, তারা কী করতে চান? এই ব্যক্তিগুলো লক্ষ্য পূরণের অনুভূতিটা আগেই পেয়ে যান। আর যখনই জেনে ফেলেন যে তিনি কী করতে চান এবং কী হতে চান তখন তার স্কুলের একেঘেঁয়েমি পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ উঠে যায়। ফলে স্কুলের পরীক্ষার ফলাফলে ভালো করেন না।

৯. তারা ঝুঁকি গ্রহণকারী

ভারতের বিখ্যাত ব্যবসায় পুঁজিপতি, বিনিয়োগকারী এবং বিশ্বপ্রেমিক আজিম প্রেমজি বলেন, ‘যদি তোমার লক্ষ্য দেখে কেউ না হাসে তাহলে বুঝবে তোমার লক্ষ্য অনেক অনেক ছোট।’ সফল ব্যক্তিদের অভিধানে ‘নিরাপদ কাজ’ এই শব্দটি নেই। তারা কাজের ক্ষেত্রে সাহসী এবং একই সাথে আত্ম-ত্যাগী হয়ে থাকেন। তারা ঝুঁকি গ্রহণ করতে জানেন। জানেন, সেবাভিত্তিক যেকোনো উদ্যোগে বিভিন্ন ঝুঁকি আসতে পারে এবং তা প্রতিহত করার সাহসও রাখেন। সফল ব্যক্তিদের এই দুঃসাহস তাদের সব ধরনের ভয় কাটিয়ে দেয়, ফলতঃ তারা বিশ্বকে জয় করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ স্কুলের গণ্ডিটাকে জয় করতে পারেন না।

১০. তারা স্বপ্নবাজ হয়ে থাকেন

দিবাস্বপ্ন! এটা আসলে ততটা খারাপ না যতটা আমরা আমাদের শিক্ষকদের কাছ থেকে শুনে থাকি। বরং সেই স্বপ্নই আমাদের জন্য ক্ষতিকর যা আমাদেরকে জগৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলে। সফল ব্যক্তিরা স্বপ্নবাজ হয়ে থাকেন। তারা স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন। আবার সেই স্বপ্নকে বাস্তবেও পূরণ করেন। তারা স্বার্থহীন, মানুষের প্রয়োজনে লাগে এমন স্বপ্ন দেখতেই ভালোবাসেন। আর এই স্বপ্নের পিছনে ছুটতে ছুটতে স্কুলের নিয়মগুলো মানতে ভুলে যান। ফলে স্কুলের সেরা ছাত্রটি হতে পারেন না।

সফল হতে চাইলে সবাইকে খুশি রেখে চলতে পারবেন না আপনি। যতো বেশি আপনি কাউকে পাত্তা দিবেন, ততো কম আপনি পাত্তা পাবেন। এসব মানুষকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন এবং নিজের লক্ষ্য ও স্বপ্নের দিকে মনোযোগ দিন।

সফল হতে চাইলে এ ব্যাপারগুলো এড়িয়ে চলুন

বিষাক্ত মানুষ থেকে দূরে থাকুন। অনেক দেরি কিংবা অনেক দ্রুত বলতে কিছু নেই। আপনার ইচ্ছাশক্তি অনুযায়ী কাজ করুন। কিন্তু দরকারী ব্যাপার থেকে কিভাবে অদরকারী ব্যাপার আলাদা করবেন? আমরা একটি তালিকা তৈরি করেছি যেন আপনি সহজেই সাফল্যের রাস্তা খুঁজে পেতে পারেন। আজ আমাদের প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য হলো- সফল হওয়ার জন্য কোন ব্যাপারগুলো এড়িয়ে চলবেন। চলুন জেনে আসা যাক-

অন্য মানুষের বিচার
এক সময় পুরো পৃথিবী নীরব হয়ে যাবে, তখন শুধুমাত্র আপনি নিজের বিবেককে শুনতে পাবেন। সেটিই আপনাকে জানান দিবে যে আদতে আপনার কী করা উচিত। সমস্যা হচ্ছে, আমরা প্রায়শই অন্য মানুষের মতামতকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বসি যার দরুণ নিজের ইচ্ছা ও পছন্দের কথাই ভুলে যাই। তবে সফল হতে হলে এ অভ্যাস বদলাতে হবে। আপনার সফলতার জন্য আপনার কী দরকার, তা আপনি ছাড়া অন্য কেউ বুঝবেনা কখনোই।

অতীতের পুরনো স্মৃতিচারণ
অতীতে কি হয়েছে না হয়েছে তা হাজার চেষ্টা করলেও আপনি বদলাতে পারবেন না। তার দরকারও নেই। আপনি বরং নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে যান। যে দিন চলে গিয়েছে তার কথা ভেবে সময় নষ্ট করার কোন মানেই হয় না।

কঠোর পরিশ্রমের পেছনের বেদনা
পৃথিবীতে দুই ধরনের বেদনা আছে। একটি হলো, যেটি আপনাকে কষ্ট দেয় এবং অপরটি হলো যেটি আপনাকে শিক্ষা দেয়। জীবনে যা যা কষ্ট আপনি পাছেন, সবগুলো থেকেই যদি শিক্ষা গ্রহণ করেন তবে আপনিই জয়ী হবেন। কোন কিছু অর্জন করতে হলে আপনাকে কষ্ট সহ্য করতে হবে, এটিই স্বাভাবিক। মনে রাখবেন, দিন শেষে কাজই কথা বলবে। সুতরাং, আপনি আপনার মতন কাজ করে যান।

হ্যাঁ এবং না বলা
আপনার নিজেরই এটা ঠিক করতে হবে যে কখন আপনি হ্যাঁ বলবেন এবং কখন না বলবেন। একেবারেই খুব বেশি চেষ্টা করার প্রয়োজন নেই, তাহলে আপনি বিভ্রান্ত হয়ে যাবেন। নিজের লক্ষ্যের দিকে মনোযোগ দিন। মানুষকে সন্তুষ্ট করতে করতে নিজেকে ভুলে যাওয়ার কোন প্রয়োজন নেই। এতে আপনার কোন লাভ হবে না।

অধৈর্যশীল চিন্তা
কঠোর পরিশ্রম করার সময় ধৈর্য ধারণ করা শিখুন। যতদূরই আপনি যান না কেন ধৈর্যকে আপনার সাথে রাখুন। অধৈর্যশীল চিন্তা আপনার সাফল্যের শিখরে পৌছতে বাধা সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে হয়তো ফল না পেয়ে কিংবা দেরিতে পেয়ে আপনি কষ্ট পাবেন কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে চলবে না।

অনিয়ন্ত্রিত বিষয়সমূহ
কখনো কোন কাজ জোর করে করাতে চাইবেন না বরং সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে শিখুন। যা হবার তা হবেই। সমস্যাগুলোর কথা না ভেবে সমাধানের কথা চিন্তা করুন। প্রত্যেকটি পরিবর্তনের পেছনেই উদ্দেশ্য থাকে। প্রথম প্রথম হয়তো আপনার খুব কষ্ট হবে কিন্তু ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে।

প্রতিদিনের ছোটখাটো ব্যর্থতা
খারাপ দিন আসেই মানুষের জীবনে। কিন্তু সেটি কখনো থেমে থাকে না। মনে রাখবেন, আপনার ভুল থেকেই অনেক কিছু শেখার আছে। সুতরাং কোন ভুল কিংবা ব্যর্থতাকে সীমাবদ্ধতা না ভেবে আশীর্বাদ মনে করুন।

বিউটি স্ট্যান্ডার্ড
আপাতদৃষ্টিতে যেসব বিষয় আপনি সৌন্দর্য হিসেবে ধরে এসেছিলেন, সেগুলো বদলানোর সময় এসেছে এবার। ধবধবে সাদার দৃষ্টিকোণ থেকে এবার বের হয়ে বাদামী সৌন্দর্যকে আপন করে নিন।

ভয়-ভীতি
জীবন মানেই ঝুঁকি। আপনি যদি ঝুঁকি না নেন তবে কখনোই সামনে এগোতে পারবেন না। ভয়গুলোর সাথে মোকাবেলা করুন। থেমে থাকলে চলবে না।মনে রাখবেন, জীবন তার আপন গতিতেই এগিয়ে চলে।

মানসিক শঙ্কা
কষ্টের দিনগুলোতেও নিজের উপর ভরসা রাখুন। ভুল মানুষই করে। কেউ না জেনে ভুল করে, আবার কেউ কাউকে কষ্ট দেওয়ার জন্য ভুল করে। বিশ্বাস রাখুন, জীবন একদিন আপনাকে উপহার দিবেই। এই ভরসাই আপনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Related Post

[random][carousel2][#e74c3c]
{picture#YOUR_PROFILE_PICTURE_URL} YOUR_PROFILE_DESCRIPTION {facebook#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {twitter#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {google#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {pinterest#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {youtube#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL} {instagram#YOUR_SOCIAL_PROFILE_URL}
Powered by Blogger.